মুরাদনগরে ৩২ বছর হাতে পত্রিকা নিয়ে মানুষের দুয়ারে, না ফেরার দেশে নিতাই সাহা
মুরাদনগরে ৩২ বছর হাতে পত্রিকা নিয়ে মানুষের দুয়ারে, না ফেরার দেশে নিতাই সাহািম
- আপডেট সময় : ১০:০২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে

মুরাদনগরে ৩২ বছর হাতে পত্রিকা নিয়ে মানুষের দুয়ারে, না ফেরার দেশে নিতাই সাহা
দীর্ঘ ৩২ বছর হাতে সংবাদপত্র নিয়ে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে সংবাদ পৌঁছে দিয়েছেন নিতাই চন্দ্র সাহা (৬৫)। ভোরের আলো ফোটার আগেই যাঁর হাতে থাকা পত্রিকা পৌঁছে যেত পাঠকের কাছে, সেই পরিচিত মুখটি আর নেই।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে নিজ বাড়িতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন মুরাদনগর বাজারের প্রবীণ এই পত্রিকা বিক্রেতা। তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পাঠক ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিতাই চন্দ্র সাহা কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের হোসেনতলা পাড়ার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৬৫ বছর। মঙ্গলবার দুপুরে রহিমপুর শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে মুরাদনগর বাজার ও আশপাশের এলাকায় পত্রিকা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন নিতাই চন্দ্র সাহা। হাতে জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার বান্ডিল নিয়ে প্রতিদিন ছুটে যেতেন পাঠকদের কাছে। রোদ-বৃষ্টি কিংবা শীত, কোনো প্রতিকূলতাই তাঁর দীর্ঘদিনের এই কর্মজীবন থামিয়ে রাখতে পারেনি। পত্রিকা বিক্রি করে অর্জিত সামান্য আয় দিয়েই চলত তাঁর সংসার।
পেশায় পত্রিকা বিক্রেতা হলেও ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন সদালাপী, হাসিখুশি ও মিশুক স্বভাবের মানুষ। মুরাদনগর বাজারের ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক ও সাধারণ পাঠকদের কাছে তিনি ছিলেন সুপরিচিত। দীর্ঘদিনের এই পথচলায় অনেকের সঙ্গে গড়ে উঠেছিল তাঁর আন্তরিক সম্পর্ক।
নিতাই চন্দ্র সাহার বড় ভাই সুভাষচন্দ্র সাহাও পত্রিকা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত। উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বাসস্টেশন-সংলগ্ন এলাকায় তাঁর একটি পত্রিকার স্টল রয়েছে। দুই ভাইয়ের জীবনই দীর্ঘদিন ধরে সংবাদপত্র বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে ছিল।
দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে মানুষের হাতে সংবাদ পৌঁছে দেওয়া নিতাই চন্দ্র সাহার নিজের জীবনসংগ্রাম ছিল নীরব, পরিশ্রমনির্ভর। প্রতিদিন অন্যের হাতে খবর তুলে দিলেও তাঁর নিজের জীবনের গল্প ছিল সাধারণ মানুষের কাছে অনেকটাই অজানা। তাঁর মৃত্যুতে মুরাদনগর বাজারের দীর্ঘদিনের পরিচিত এক পত্রিকা বিক্রেতাকে হারালেন স্থানীয়রা।
প্রবীণ এই পত্রিকা বিক্রেতার মৃত্যুতে মুরাদনগর স্থানীয় সংবাদকর্মী ও বাজারের ব্যবসায়ীরাসহ অনেকেই গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।















